শান্তি চিরকাল

এক পরম বাস্তবতা, এক শান্তির পথ

অনেক রূপের আড়ালে, আপনার ধর্মগ্রন্থগুলি এক নিরাকার পরম সত্তার কথা বলে। আসুন আমরা সেই সুন্দর সত্যকে সম্মান ও উন্মুক্ত হৃদয় নিয়ে অন্বেষণ করি।

মাছ

আপনি কি জানেন যে, মাছ কেবল জলের মাঝেই সুখী থাকে? যদি আপনি তাকে জল থেকে তুলে সোনার প্লেটে রাখেন, তবুও সে শান্তি পাবে না।

তেমনভাবেই, মানুষও ঈশ্বরের আদেশ মেনে চলার মাধ্যমেই প্রকৃত শান্তি খুঁজে পায়। ঈশ্বরের কাছ থেকে আসা একমাত্র সত্য ধর্ম কোনটি? জানতে নিচের লিংকে ক্লিক করে জেনে নিন।

অন্বেষণ করুন

হিন্দুধর্মের প্রকৃত বার্তা

হিন্দুধর্মের প্রকৃত বার্তা

বেদের প্রাচীন জ্ঞান অন্বেষণ

প্রাচীন বৈদিক শিক্ষায় সর্বোচ্চ সত্তা—যিনি সমগ্র সৃষ্টির স্রষ্টা ও পালনকর্তা—তাঁর প্রতি ভক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
ব্যাখ্যা:
বেদে এমন বহু অংশ রয়েছে যেখানে মানুষের কল্পনা ও তুলনার ঊর্ধ্বে এক পরম সত্য বা সর্বোচ্চ বাস্তবতার কথা বর্ণনা করা হয়েছে।
সর্বোচ্চ পরমেশ্বর চিরন্তন, সর্বজ্ঞ এবং তাঁর সৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল নন।
ব্যাখ্যা:
ঈশ্বর সময়, স্থান কিংবা জড় জগতের সীমাবদ্ধতার মধ্যে আবদ্ধ নন। তিনি সমস্ত সৃষ্টির পূর্বে ছিলেন এবং সবকিছুর ঊর্ধ্বে অবস্থান করেন।
মানবজীবনের উদ্দেশ্য হলো পরম সত্যকে জানা, তাঁর উপাসনা করা এবং তাঁর নির্দেশনা মেনে চলা।
ব্যাখ্যা:
আধ্যাত্মিক সফলতা কেবল আনুষ্ঠানিক আচার-অনুষ্ঠানে নয়; বরং আন্তরিকতা, ন্যায়পরায়ণতা ও ভক্তির মাধ্যমে অর্জিত হয়।
সত্যবাদিতা, দয়া, আত্মসংযম এবং দানশীলতা মানুষের সর্বোচ্চ গুণগুলোর অন্তর্ভুক্ত।
ব্যাখ্যা:
ধর্মগ্রন্থগুলো বারবার উত্তম চরিত্র গঠন এবং মানুষের সেবার প্রতি উৎসাহ প্রদান করে।
ঐশী সত্তা ওহি, প্রজ্ঞা এবং সৎ শিক্ষকদের মাধ্যমে মানবজাতিকে পথনির্দেশ দেন।
ব্যাখ্যা:
ইতিহাসজুড়ে মানুষ পবিত্র ধর্মগ্রন্থ এবং ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিদের মাধ্যমে সঠিক পথের সন্ধান করে এসেছে।
প্রত্যেক মানুষ তার কর্মের জন্য দায়বদ্ধ।
ব্যাখ্যা:
সৎকর্ম কল্যাণ বয়ে আনে, আর অসৎকর্মের ফল ভোগ করতে হয়। ন্যায়বিচার ঐশী বিধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
জ্ঞান অর্জন করো এবং সৃষ্টিজগতের নিদর্শনগুলো নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করো।
ব্যাখ্যা:
সমগ্র মহাবিশ্ব তার স্রষ্টার প্রজ্ঞা, ক্ষমতা ও মহিমার সাক্ষ্য বহন করে।
প্রকৃত শান্তির পথ শুরু হয় সর্বোচ্চ সত্তাকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনার মাধ্যমে।
ব্যাখ্যা:
সত্যিকারের শান্তি অর্জিত হয় ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস, ন্যায়পরায়ণ জীবনযাপন এবং পরম সত্যের কাছে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে।
চিন্তার বিষয়

প্রাচীন ধর্মগ্রন্থগুলো মানুষকে সত্যের অনুসন্ধান করতে, সর্বোচ্চ স্রষ্টার উপাসনা করতে এবং ন্যায়, দয়া ও ভক্তিপূর্ণ জীবনযাপন করতে উৎসাহিত করে।

পরিপূর্ণ শান্তি পেতে অন্তরের দিকে তাকিয়ে ঈশ্বরের কথাগুলো একবার শুনুন
সত্যিকার ঈশ্বরের পরিচয় জানুন
সত্যিকার ঈশ্বরের পরিচয় জানুন
সনাতন ধর্মের পরিচয় ধর্মগ্রন্থের আলোকে
বিজ্ঞানের আলোকে ধর্মীয় ভাবনা
কলির যুগের অবতার কে হবেন?
ভগবত গীতা কী বলেন ঈশ্বর সম্পর্কে?
ঈশ্বরের কথা শুনুন
শান্তি সম্পর্কে যদি আপনার মনে কোনো প্রশ্ন জাগে, তবে আমরা আন্তরিকভাবে আপনার কথা শুনতে প্রস্তুত। আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন: [email protected] । আপনার প্রতিটি শব্দ আমাদের কাছে মূল্যবান।
চির প্রশান্তির খোঁজে
জীবনের আকাশ যখন হতাশার কালো মেঘে ছেয়ে যায়, যখন হাজারো কষ্টে ভেঙে সুখ, শান্তি, স্বস্তি হারিয়ে যায়, তখন কে উদ্ধার করতে পারেন এই বিশালতার বেড়াজাল থেকে?

কে দিতে পারেন প্রশান্তির আশ্বাস?

উত্তরটা কি জানেন?

আপনার হৃদয়ের গভীর জীবন থেকে উত্তর চলে আসবে—হ্যাঁ, সেই ঈশ্বরই পারেন। মানুষকে কষ্ট থেকে, মানুষের জীবনকে পরম শান্তির আবাস বানিয়ে দিতে।

আপনি কি জানেন, ঈশ্বর কী বলেছেন নিজের সম্পর্কে? কখনো কি জানতে চেষ্টা করেছেন—ঈশ্বরের প্রকৃত বাণীসমূহ এবং তাঁর বার্তা?

ঈশ্বর প্রদত্ত এই জীবন—যদি ঈশ্বরকেই চিনতে না পারি, তবে কীভাবে মিলবে চির প্রশান্তির খোঁজ?

ফাতিমা ও পূজার কথোপকথন

সম্ভোধন
ফা
ফাতিমা আসসালামু আলা মানিত্তাবা আল হুদা।
পূজা নমস্কার।
পূ
ফা
ফাতিমা কেমন আছো, বোন?
পূজা ভগবানের কৃপায় ভালো আছি।
পূ
সাদৃশ্য
ফা
ফাতিমা বোন, আমাদের মধ্যে কেমন যেন একটা ভুল বোঝাবুঝি আছে। মুসলিমরা হিন্দু দেখলে দূরে দূরে থাকে হিন্দুরাও মুসলিম দেখলে দূরে দূরে থাকে। তোমার কপালে লেখা নেই হিন্দু, আমার কপালেও ‘মুসলিম’ লেখা নেই। তোমার শরীর কেটে গেলে লাল রক্ত বের হবে; আমার শরীর কেটে গেলেও একই রক্ত বের হবে। তোমার আমার মধ্যে যেমন পার্থক্য নাই, তোমার আমার মালিকের মধ্যেও ঠিক কোনোই পার্থক্য নাই। তোমার আমার মালিক একজন-ই।
পূজা তাই নাকি? কিন্তু আমি তো জানি আমাদের মালিক ভিন্ন ভিন্ন। তোমাদের মালিক আল্লাহ; আমাদের ভগবান।
পূ
ফা
ফাতিমা না, বোন। আমাদের মালিক একজনই। আমাদের সবাইকে এক প্রভু-ই সৃষ্টি করেছেন। যদি তাই না হতো, তবে তোমার আমার ভিতরে অনেক পার্থক্য থাকতো। যেমন, তোমার দুটি চোখ, আমারও দুটি চোখ। তোমার একটি নাক, আমারও একটি। তাই হিন্দু, খ্রিষ্টান, মুসলিম- যেই হোক দুনিয়ায় সবার মালিক একজন।
তাওহীদ
পূজা আমাদের মালিক যে একজন তার প্রমাণ কী?
পূ
ফা
ফাতিমা পবিত্র মহাগন্থ আল-কুরআনের সূরা ইখলাসে আছে- ‘কুল হু-আল্লাহু আহাদ’- বলো, মালিক একজন। ‘আল্লাহুস সামাদ’- মালিক কারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী। ‘লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইউলাদ’- তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কারো থেকে তিনি জন্ম নেননি। ‘ওয়ালাম ইয়া কুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ’- আর তাঁর কোনো সমকক্ষ কিছুই নেই। এই এক সূরায় একজন মালিক কেমন হবে তার সব তুলে ধরা হয়েছে। মালিকের কোনো বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী বা সন্তান থাকতে পারে না। তুমি কি তোমাদের প্রধান ধর্মগ্রন্থের নাম জানো?
পূজা আমি যতদূর জেনেছি- আমাদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ বেদ।
পূ
ফা
ফাতিমা ঠিকই জেনেছো, বেদ। কিন্তু, তুমি কি কখনো বেদ দেখেছো বা পড়েছো? তোমাদের বাসায় কি বেদ আছে?
পূজা না, আমার বাসাতে বেদ নেই; কিন্তু, গীতা আছে। বাবা বলেছেন- কলিযুগে গীতা-ই মুক্তির সহজ ও প্রধান উপায়।
পূ
ফা
ফাতিমা গীতা মূলত মহাকাব্য ‘মহাভারত’-এর অংশ। এটি কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ শুরুর আগে কৃষ্ণ ও পাণ্ডব রাজকুমার অর্জুনের কথোপকথন। বেদের ৪টি অংশ। ১. ঋগ্বেদ, ২. সামবেদ, ৩. যজুর্বেদ, ৪. অথর্ববেদ তোমাদের ধর্মগ্রন্থ ঋগ্বেদের “৩২ নং অধ্যায়ে আছে-” ১. না তান্তে প্রতিমা অস্তি, অর্থাৎ ঈশ্বরের কোনো প্রতিমূর্তি নেই। ভগবৎ গীতার ৭ম অধ্যায়ে আছে- যারা নিজের বিবেক বুদ্ধি হারিয়েছে তারাই মূর্তি পূজা করে। বেদের ‘ব্রহ্ম সূত্র’ তে আছে- একং ব্রহ্ম দ্বিতীয়ং নাস্তি, নেহ না নাস্তি কিঞ্চন অর্থাৎ ঈশ্বর বা মালিক বা সৃষ্টিকর্তা একজন। দ্বিতীয় জন নেই, নেই নেই সামান্যও নেই। আরো আছে- (ঋগ্বেদ ২:৪৫:১৬) তিনি একজন; তাঁর-ই উপাসনা করো।
ফা
ফাতিমা এছাড়াও এক মালিকের ব্যাপারে জোর দিয়ে অথর্ব বেদ এর মন্ত্র ১৩:৪:২ এ বলা হয়েছে- ‘য এতং দেবমেকবৃতং বেদ। ন দ্বিতীয় ন তৃতীয়শ্চতুর্থো নাপ্যুচ্যতে। ন পঞ্চমোনো ষষ্ঠঃ সপ্তমোনো নাপ্যুচ্যতে। নাষ্টমো ন নবমো দশমো নাপ্যুচ্যতে।’ অর্থ: মালিক বা সৃষ্টিকর্তা একজন; তিনি ছাড়া কেহই দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম বা দশম ঈশ্বর বলিয়া অভিহিত হয় না। যিনি তাঁহাকে শুধু এক বলিয়া জানেন তিনিই তাঁহাকে প্রাপ্ত হন। এক ঈশ্বর চিন্তন জ্ঞানীর, বহু ঈশ্বরের ধারণা মূর্খের।
পূজা দিদি! তোমার কথা শুনে আমার এখন দৃঢ় বিশ্বাস হয়েছে যে- আমাদের সকলের মালিক একজনই।
পূ
হিন্দু ধর্ম
ফা
ফাতিমা তোমার ধর্মের নাম কী?
পূজা কেন? হিন্দু!
পূ
ফা
ফাতিমা বোন দেখো, হিন্দু কোনো ধর্মের নাম নয়। প্রাচীন সিন্ধু নদীর তীরে যে সকল আর্যরা বসবাস করতেন, তাদের হিন্দু বলা হতো। এই আর্যরা ‘স কে হ’ উচ্চারণ করতো। তাই তাদের হিন্দু বলতো। তবে, হিন্দু ধর্মকে অনেকে ‘সনাতন ধর্ম’ বলে থাকেন। Here is the transcribed text from the page, continuing with the exact same consistent structure and layout:
শির্ক
ফা
ফাতিমা আচ্ছা! বোন, তুমি কি মূর্তি পূজা পছন্দ করো?
পূজা দিদি! আমার বাপ-দাদারা সবাই করে; তাই, আমিও করি। কিন্তু বেদ- এ এই ব্যাপারে কী বলা আছে তা কেউ আমাকে কখনো শোনায়নি। তাছাড়া, ধর্ম আমাদেরকে বেদ পড়তে অনুমোদন দেয় না। আমাদের হিন্দু ধর্মে বেদ শুধু ব্রাহ্মণগণ পড়তে পারে।
পূ
ফা
ফাতিমা কুরআন ও তোমাদের ধর্মগ্রন্থ- দুটোতেই মূর্তি পূজা থেকে বিরত থাকার বিধান রয়েছে। কুরআনে আছে- লা তুশরিক বিল্লাহ- আল্লাহর সাথে কাউকে অংশীদার স্থাপন (শির্ক) করো না। ইন্নাশ শির্কা লাযুলমুন আযীমুন- নিশ্চয়ই শির্ক হলো সবচেয়ে বড় জুলুম। তোমাদের ধর্মগ্রন্থ যজুর্বেদ- অধ্যায়: ৪০-এর ৯ নং শ্লোকে বর্ণিত রয়েছে: অন্ধং তমঃ প্রবিশন্তি যেঽসংভূতিমুপাসতে। ততো ভূয় ইব তে তমো য উ সম্ভূত্যাংরতাঃ অর্থ: তারা অন্ধকার নরকে প্রবেশ করে যারা প্রাকৃতিক বস্তুর পূজা করে (যেমন আগুন, পানি, বাতাস ইত্যাদি)। তারা আরো অন্ধকারে প্রবেশ করে যারা মানুষের তৈরি বস্তুর পূজা করে (যেমন: চেয়ার, টেবিল, মূর্তি ইত্যাদি)। অন্যদিকে, গীতার ১০ম অধ্যায়ের ৩ নং শ্লোকে আছে- তারা হচ্ছে বস্তুবাদী লোক, যারা উপদেবতার উপাসনা করে; তাই তারা প্রকৃত স্রষ্টার উপাসনা করে না।
পূজা একটি বিষয় খটকা লাগছে। ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব কি পূজার যোগ্য নন? উনারা কি দেবতা নন?
পূ
ফা
ফাতিমা ঠিক আছে, তোমাকে এবার দেবতাদের নিয়ে কিছু ধারণা দিচ্ছি:
ফা
ফাতিমা তোমাদের ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী, ভগবান নিরাকার এবং সাকার উভয়ই হতে পারেন। ভগবানের প্রধান দেবতা ব্রহ্মা। ব্রহ্মা অর্থ সৃষ্টিকর্তা। অর্থাৎ, তোমাদের ধর্ম অনুযায়ী ব্রহ্মা সবাইকে সৃষ্টি করেছেন। অপর দুই জন দেবতা হলো বিষ্ণু ও শিব। বিষ্ণু পালনকর্তা ও শিব ধ্বংসকর্তা। তবে তুমি কি জানো, ব্রহ্মার স্ত্রীর নাম সরস্বতী? সরস্বতী দেবী দুর্গার মেয়ে। তোমাদের পালনকর্তার নাম বিষ্ণু। বিষ্ণুর স্ত্রীর নাম লক্ষ্মী। লক্ষ্মীও আবার দুর্গার আরেক মেয়ে। আচ্ছা! এবার বলো তো, সৃষ্টিকর্তার কি মা-বাবা থাকতে পারে? সৃষ্টিকর্তার কি বিয়ের প্রয়োজন পড়ে?
পূজা আসলে আমি এসব নিয়ে কখনো কোনো প্রকার চিন্তা-ভাবনা করি নাই।
পূ

দেবতাদের পরিচয়

শিব-পার্বতী (স্বামী-স্ত্রী): (শিব ধ্বংসের দেবতা), শ্রী দুর্গা, শ্রী কালী। পার্বতীর অপর নাম দুর্গা, দুর্গার ভয়ংকর সংহাররূপী হলো শ্রী কালী। দুর্গা সমৃদ্ধি নিয়ে আসে। কালী অশুভ শক্তি দূর করে।


শ্রী দুর্গার পরিবার:

  • মেয়ে: সরস্বতী (বিদ্যার দেবী - স্বামী: ব্রহ্মা [সৃষ্টির দেবতা]), লক্ষ্মী (ধন-সম্পদের দেবী - স্বামী: বিষ্ণু [লালন পালনের দেবতা])
  • বিষ্ণুর অবতার: ৭ম অবতার: রাম, ৮ ম অবতার: শ্রী কৃষ্ণ
  • ছেলে: কার্তিক (যুদ্ধের দেবতা), গণেশ (সফলতার দেবতা)

শারদীয় দুর্গা পূজা-ই সবচেয়ে বড় পূজা। এ পূজায় দুর্গার সাথে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ ও অসুর সহ নব পত্রিকার (নয় প্রকার; পাতা- কলা, কচু, ধান, হলুদ, ডালিম, বেল, অশোক, জয়ন্তী, মানকচুর) পূজা হয়ে থাকে।

ফা
ফাতিমা তোমাদের ধ্বংসের দেবতার নাম শিব। শিবের স্ত্রী পার্বতী বা দুর্গা। সবার শক্তির নারী রূপ ধারণ করেছে দুর্গা। দুর্গা হলো শক্তির দেবী। দুর্গার দশ হাত। পুরাণ রচয়িতারা প্রথমে দুর্গার ৪ হাত, তারপর ৮ হাত, তারপর ১৬ হাত এবং সবশেষে ১৮ হাত পর্যন্ত দিয়েছিল। কিন্তু এই ১৬/১৮ হাত অবাস্তব বিবেচনা করে, শেষ পর্যন্ত বাস্তবের ১০ দিককে ঠেকানোর জন্য তারা ১০ হাত চূড়ান্ত করে এবং এখন পর্যন্ত সেটাই জনপ্রিয় এবং সেটাই চলছে। দুর্গার ভয়ংকর সংহার রূপই কালী।
ফা
ফাতিমা দুর্গার ছেলে কার্তিক ও গণেশ। মেয়ের নাম লক্ষ্মী ও সরস্বতী। লক্ষ্মী ধন-সম্পদের দেবী। সরস্বতী জ্ঞানের দেবী। লক্ষ্মীর স্বামীর নাম বিষ্ণু। তিনি পালনকর্তা। সরস্বতীকে বিবাহ করেছেন ব্রহ্মা। ব্রহ্মা আবার সৃষ্টির দেবতা।
ফা
ফাতিমা ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব ( ওঁম্ / ॐ) যদি একই সত্ত্বা হয় তাহলে ৩ জনের সন্তান তো সবারই সন্তান। অন্যদিকে একজনের স্ত্রী সবার স্ত্রী হবার কথা। কিন্তু, কখনো স্ত্রী হচ্ছে সন্তান, সন্তান হচ্ছে স্ত্রী। কারণ, ভগবান শিবের মেয়েদের তো ভগবানের সাথে বিয়ে হয়েছে। আবার বলা হয় তারা একই সত্ত্বা; এগুলো কীভাবে? সবচেয়ে বাস্তব সত্য হচ্ছে রক্ত-মাংসের মানুষ কখনো সৃষ্টিকর্তা বা দেবতা হতে পারে না।
পূজা মাথা পেঁচিয়ে যাচ্ছে।
পূ
শ্রী কৃষ্ণ
ফা
ফাতিমা বিষ্ণুর ৭ম অবতার রাম রূপে পৃথিবীতে এসেছে। বিষ্ণুর ৮ ম অবতার শ্রীকৃষ্ণের রূপে এসেছে। তুমি কি জানো, শ্রী কৃষ্ণের মামীর নাম রাধা? শ্রী কৃষ্ণ আবার তার মামীকে বিয়ে করেন। যদিও হিন্দু ধর্ম মতে মামীকে মামী-মা বলা হয়; যাকে বিয়ে করা যায় না।
ফা
ফাতিমা তোমাদের শাস্ত্র মতে শ্রী কৃষ্ণের মোট বিয়ে হয়েছিল ১৬,১০৮ জনের সাথে। যার মধ্যে প্রধান স্ত্রী ৮ জন। তার ১ লক্ষ ৮০ হাজার সন্তান ছিল। তিনি ১২৫ বছর বেঁচে ছিলেন। তার পা-কে হরিণ মনে করে জরা নামক একজন শিকারি তীর নিক্ষেপ করে তাকে হত্যা করেন। গোটা বিশ্বের হিন্দু বা সনাতনীরা যাকে সকলের প্রভু মনে করে সবচেয়ে বেশি পূজা করে, তিনি মারা গেছেন সামান্য শিকারির তীরের আঘাতে!
গণেশ ও কালীর ঘটনা
পূজা যতই শুনছি, অবাক হচ্ছি। দিদি, একটা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে? গণেশের শরীর মানুষের মতো হলেও মাথা হাতির মতো কেন?
পূ
ফা
ফাতিমা (পুরাণ অনুসারে) শিব একদিন ঘরে প্রবেশ করে ঘরে একজন অচেনা পুরুষকে দেখে হঠাৎ খুব রাগান্বিত হয়ে যান এবং সাথে সাথে তলোয়ার দিয়ে তার মাথা বিচ্ছিন্ন করে হত্যা করে ফেলেন। ভগবান হয়েও শিব জানতেন না সেই অচেনা পুরুষ গণেশ তারই ছেলে। সন্তান হারিয়ে শিবের স্ত্রী পার্বতী কান্নায় ভেঙে পড়েন। পার্বতীর শোকার্ত অবস্থা দেখে হতবাক শিব তখনই ছুটে যান জঙ্গলে। শোনা যায়, সেই সময় জঙ্গলে যে জন্তুকে প্রথমে দেখা যাবে, সেই জন্তুর মাথা কেটে গণেশের মাথায় বসানো হবে বলে স্থির হয়। আর সেই মতো জঙ্গলে প্রথমে হাতিকে দেখতে পেয়ে শিব তারই মাথা কেটে নিয়ে আসেন এবং বসিয়ে দেন গণেশের মাথায়। তারপর থেকেই হাতির মাথা পান গণেশ।
ফা
ফাতিমা অন্যদিকে, গণেশের চলাচলের জন্য বাহন ছিল ইঁদুর। ইঁদুরের পিঠে চড়ে গণেশ বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করতেন। দুর্গার বাহন সিংহ। কার্তিকের বাহন ময়ূর। আচ্ছা তোমার কী মনে হয়, মানুষের শরীরের সাথে কি কখনো হাতির মাথা যুক্ত করা যায়? ইঁদুর, সিংহ, ময়ূর কিভাবে কারো বাহন হতে পারে?
পূজা বিষয়গুলো সত্যিই আমাকে ভাবাচ্ছ। আরেকটি প্রশ্ন, মা কালী জিহ্বা বের করে রাখেন কেন আর দেবতা শিবকে কেন মা কালীর পায়ের নিচে রাখা হয়?
পূ
ফা
ফাতিমা উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুসারে অসুররা স্বর্গে দেবতাদের উপর আক্রমণ করে স্বর্গ দখলের চেষ্টা করে। অসুর নিধন করতে অবতীর্ণ হন দেবী দুর্গা। এই যুদ্ধ শুরু করেন দুর্গা শঙ্খ বাজিয়ে। যুদ্ধে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করেন ত্রিশূল। অসুরদের মাথা কাটার জন্য ব্যবহার করেন খড়গ। এই যুদ্ধে সাপ তাকে সাহায্য করে। যার কারণে দুর্গার হাতে এগুলো দেখা যায়। সব অসুর নিহত হলেও বেঁচে থাকেন তাদের নেতা রক্তবীজ। রক্তবীজের এক ফোঁটা রক্ত মাটিতে পড়লেই তা থেকে নতুন রক্তবীজ জন্ম নিত। এই অবস্থায় দুর্গার ভীষণ ক্রোধে তার দুই ভ্রূর মাঝখান থেকে জন্ম নেন কালী।
ফা
ফাতিমা রক্তবীজের একফোঁটা রক্তও যাতে ভূমিতে না পড়ে এজন্য রক্তবীজের দেহ অস্ত্রে বিদ্ধ করে উপরে তুলে নেন এবং তাঁর সব রক্ত পান করেন কালী। সব রক্ত শেষ হয়ে যাওয়ায় রক্তবীজ মারা যায়। এরপর বিজয় নৃত্য শুরু করেন কালী। নিহত অসুরদের হাত দিয়ে মালা বানিয়ে তিনি কোমরে এবং মাথা দিয়ে মালা বানিয়ে গলায় পরিধান করেন। শিবের একাধিক মৌখিক অনুরোধ শুনতে পাননি কালী। কারণ, তখন তিনি পাগলের মতো নেচে চলেছেন। আর কোনো উপায় না দেখে নৃত্যরত কালীর পায়ের তলায় শুয়ে পড়েন তারই স্বামী শিব। তারপরেই হুঁশ ফেরে কালীর। থেমে যায় নাচ। পায়ের নিচে স্বামীকে দেখে লজ্জায় জিভ কাটেন। সেই থেকেই ভগবান শিবকে দেবী মা কালীর পায়ের নিচে রাখা হয়।
পূজা বিষয়গুলো কেমন রূপকথার মতো লাগছে।
পূ
রিসালাত
ফা
ফাতিমা আচ্ছা তুমি কি জানো নবী মুহাম্মদ (সা.) তোমারও নবী, আমারও নবী?
পূজা তাই নাকি!
পূ
ফা
ফাতিমা ‘কল্কি পুরান’ নামে তোমাদের একটি কিতাব আছে, সেখানে ৪টি যুগের কথা উল্লেখ আছে। সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর এবং সর্বশেষে কলি যুগ। সত্য যুগের অবতার মৎস্য, নৃসিংহ (মানব-সিংহ)। ত্রেতা যুগের অবতার রাম। দ্বাপর যুগের অবতার কৃষ্ণ, গৌতম বুদ্ধ। প্রত্যেক যুগেই তোমাদের ধর্ম মতে কোনো না কোনো অবতার এসেছেন। বলো তো, এখন কোন যুগ চলে?
পূজা কলি যুগ।
পূ
ফা
ফাতিমা এই যুগের অবতারের নাম কী?
পূজা কলিযুগের অবতার কল্কি-এতটুকু জানি। এখনও তিনি পৃথিবীতে আসেননি।
পূ
ফা
ফাতিমা তোমাদের ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী কলি যুগের কল্কি অবতারের নাম হলো 'নরাশংস'। শব্দটি সংস্কৃত ভাষার। যার বাংলা অর্থ 'প্রশংসিত মানব'। এর আরবি করলে দাঁড়ায় 'মুহাম্মাদ'। আমাদের শেষ নবীর নাম ছিল মুহাম্মাদ (সা.)।
ফা
ফাতিমা কল্কি অবতারের মায়ের নাম 'সুমতি'; এটি সংস্কৃত শব্দ। যার বাংলা অর্থ 'নিরাপদ/শান্তি'। এর আরবি অর্থ আমিনা। আমিনা হলেন শেষ নবী মুহাম্মাদ (সা.)- এর মায়ের নাম।
ফা
ফাতিমা কল্কি অবতারের পিতার নাম 'বিষ্ণু যশা'। 'বিষ্ণু' অর্থ 'মালিক' এবং 'যশা' অর্থ 'দাস'। তাহলে, 'বিষ্ণু যশা'- এর বাংলা অর্থ দাঁড়ায় 'মালিকের দাস' এবং আরবি অর্থ হয় 'আব্দুল্লাহ'। আর আব্দুল্লাহ ছিলেন শেষ নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর পিতা।
ফা
ফাতিমা কল্কি অবতারের জন্মস্থান সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তিনি 'শম্বল' নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করবেন। 'শম্বল' সংস্কৃত শব্দ; যার বাংলা অর্থ 'শান্তির স্থান' আরবিতে হয় 'মক্কা'। শেষ নবী মুহাম্মদ (সা.) মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন।
ফা
ফাতিমা তাঁর জন্ম মাধব মাসের শুক্লপক্ষের দ্বাদশ তারিখ। যাকে আরবি ক্যালেন্ডারে রূপান্তর করলে হয় 'রবিউল আউয়াল' এর দ্বাদশ তারিখ অর্থাৎ ১২ই রবিউল আউয়াল। যার সাথে নবী মুহাম্মদ (সা.)- এর সাথে সম্পূর্ণ মিল রয়েছে। এছাড়া, আরো বলা হয়েছে কুরুক্ষেত্রে দেবদূত তাকে সাহায্য করবেন। বদরের যুদ্ধে ফেরেশতারা সহায়তা করেছিলেন। কল্কি অবতারে আরও বলা আছে-তিনি অশ্বারোহী হবেন; পৃথিবীর সকল মানুষের জন্য হবেন; খতনা করানো অবস্থায় জন্ম গ্রহণ করবেন, দস্যু দমন কাজ সমাপ্ত হলে গ্রামে-গঞ্জে বসবাসকারীরা দলে দলে তাঁর ধর্মে দীক্ষিত হবে।
ফা
ফাতিমা কল্কি পুরানে আরও বলা আছে - তিনি হবেন সর্বশেষ ঋষি। মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন সর্বশেষ নবী। তিনি ঘোড়ায় চড়ে তরবারি দ্বারা দুষ্টের দমন করবেন। যদি প্রশ্ন করা হয়, এখন কি আর তলোয়ারের যুগ আছে? উত্তর হবে- না। উপরের দীর্ঘ আলোচনা থেকে এটা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয় যে, কল্কি অবতার-ই হল আমার তোমার সবার নবী মুহাম্মদ (সা.), যিনি প্রায় ১৪৫০ বছর আগে পৃথিবীতে এসেছিলেন ও আমাদের পথ দেখানোর জন্য কুরআন- হাদিস রেখে গেছেন।
পূজা দিদি, তাহলে আমরা যার অপেক্ষা করছি তিনি এসে চলেও গেছেন।
পূ
চিতায় দহন ও সতীদাহ প্রথা
ফা
ফাতিমা তোমার সবচেয়ে পছন্দের ব্যক্তির নাম কী?
পূজা আমার মা- বাবা।
পূ
ফা
ফাতিমা একবার ভাবো তো, তোমার মা যখন মারা যাবেন, হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী তাকে চিতায় পোড়ানোর জন্য পুরো শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে। এরপর, সবার প্রথমে দাউ দাউ করে তোমার মায়ের শরীরের সমস্ত কাপড় পুড়ে যাবে। তোমার দরদী মা সকলের সামনে বিবস্ত্র হয়ে পড়বে। দাউ দাউ করে চিতার আগুনে জ্বলতে থাকা মা-কে লাঠি দিয়ে আবার পিটিয়ে হাড়গুলো ভেঙ্গে দেয়া হবে। এরপর পুড়ে কয়লা হয়ে যাবে। এই দৃশ্য কি তুমি সহ্য করতে পারবে?
পূজা এই দৃশ্য আমি কীভাবে সহ্য করব?
পূ
ফা
ফাতিমা আমাদের ধর্মে কেউ মারা গেলে তাকে যত্ন করে গোসল করানো হয়, সুগন্ধি মাখানো হয়। পরিচিত-অপরিচিত, ধনী-গরিবের মাঝে কোনো পার্থক্য করা হয় না। সাদা কাপড় পড়িয়ে তার বিদেহী আত্মার শেষ বিদায় জানানো হয় জানাজার নামাজের মাধ্যমে। কতো যত্ন করে কবর দেওয়া হয়! অথচ একজন মানুষকে পোড়ালে তার শরীর থেকে বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয় যেগুলো পরিবেশের জন্য অনেক ক্ষতিকর। অন্যদিকে, মাটিতে কাউকে কবর দিলে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয় না।
পূজা সত্যিই! সভ্য যুগে এসে মানুষকে চিতার আগুনে পোড়ানো অবৈজ্ঞানিক-ই মনে হয়।
পূ
ফা
ফাতিমা তোমার কি সতীদাহ প্রথা সম্পর্কে জানা আছে? এটি হিন্দু ধর্মের এমন একটি প্রথা যেখানে স্বামী মারা গেলে তার চিতায় জীবন্ত স্ত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে স্বামীর সাথে হত্যা করা হতো। এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে, স্ত্রীকে আগুনে দেওয়ার পর সে জীবন বাঁচাতে দৌড়ে পুকুরে ঝাপ দিয়েছে। পুকুর থেকে তুলে এনে তাকে আবার মন্দিরের ঠাকুররা মিলে জোর করে হাত পা বেধে আগুনে ছেড়ে দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। রাজা রামমোহন রায় প্রায় ১৬ বছর সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেন। ১৮২৯ সালের ৪ ডিসেম্বর সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করা হয়। ঈশ্বরের ধর্ম কীভাবে এত নৃশংস হতে পারে? সত্য ধর্মের বিধি-বিধানের সংস্কারই বা কীভাবে হয়?
পূজা বিষয়টি সত্যিই চিন্তায় ফেলে দিলো।
পূ
বর্ণ প্রথা
ফা
ফাতিমা তুমি কি জানো নির্দোষ হয়ে জন্মেও তুমি পাপ নিয়ে জন্মাতে পারো?
পূজা কীভাবে? আমি এমন কিছু জানি না।
পূ
ফা
ফাতিমা হিন্দু ধর্মের বর্ণ প্রথা এমনভাবেই সাজানো হয়েছে। হিন্দু ধর্মে ৪টি জাতি: ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র। যেখানে সমস্ত অধিকার শুধু ব্রাহ্মণরাই পাবে। শাস্ত্র অনুযায়ী, স্রষ্টার মুখ থেকে ব্রাহ্মণ আর পা থেকে শূদ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। শূদ্র যে অপরাধই করুক না কেন, তার সাজা সবসময়ই চরম। কোনো ব্রাহ্মণকে চোর বলে গালি দিলে তার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। অপরাধের জন্য এক পক্ষের সাজা মৃত্যুদণ্ড, সেই একই অপরাধ করলে অপর পক্ষের জরিমানা হবে মাত্র বারো পণ। যদি কোনো শূদ্র পাপবাচক শব্দ উচ্চারণ করে কর্কশভাবে কোনো দ্বিজকে (ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য) গালি দেয়, তবে তার জিহ্বা কেটে ফেলতে হবে। যদি সে নাম বা জাতি উল্লেখ করে দ্বিজকে গালি দেয়, তবে তার মুখের মধ্যে দশ আঙ্গুল লম্বা জ্বলন্ত লৌহশলাকা ঢুকিয়ে দিতে হবে।
ফা
ফাতিমা কোনো শূদ্র যদি ব্রাহ্মণকে ধর্মোপদেশ দেয় তবে তার মুখে ও কানে উত্তপ্ত তেল ঢেলে দিতে হবে। একটু সাহস করে যদি সে ব্রাহ্মণের সঙ্গে একই আসনে বসতে চায় তবে উত্তপ্ত লোহা দিয়ে কোমর পুড়িয়ে দিয়ে তাকে নির্বাসন দেওয়া হবে। যদি সে ব্রাহ্মণের ধন অপহরণ করে বা তাকে শারীরিকভাবে কষ্ট দেয় তাহলে নাক-কান কেটে হত্যা করতে হবে। তবে ব্রাহ্মণের ক্ষেত্রে এসব প্রযোজ্য নয়। এই চারটি বর্ণের প্রতিটি অপরটি থেকে আলাদা। এক বর্ণের মানুষ অপর বর্ণের কাউকে বিয়ে করতে পারে না। হিন্দু বা সনাতন ধর্মে এই ধরণের অনেক বৈষম্য রয়েছে। পুনর্জন্মের ধারণা অনুযায়ী একজন হিন্দুর জন্ম নির্ভর করে আগের জন্মের পাপ অথবা পুণ্যের উপরে। [শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ২:২২, উপনিষদ ৪:৪:৩] এ জন্মের পাপের উপর ভিত্তি করে পরের জন্মে সে তেলাপোকা, ইঁদুর, সাপ, বিড়াল অথবা কুকুর হয়ে জন্মগ্রহণ করবে। কেউ ভালো কাজ করলেই শুধুমাত্র মানুষ হয়ে জন্ম নিবে। যেহেতু পৃথিবীতে পাপী মানুষের সংখ্যা-ই বেশি, সেহেতু মানুষের সংখ্যা দিনদিন কমা উচিত ছিল। কিন্তু মানুষের সংখ্যা তো বেড়েই চলছে। সুতরাং, পুনর্জন্মতত্ত্ববাদ একটি সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।
ফা
ফাতিমা কিন্তু ইসলাম ধর্মে সবাই সমান। একজন শিশু নিষ্পাপ হয়ে জন্ম নেয়। নিজের কর্ম অনুযায়ী তার কর্মের প্রতিফল নির্ধারিত হয়। তুমি দেখবে, মসজিদে নামাযের সময় রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে রাস্তার ফকিরও একই কাতারে পাশাপাশি থাকে। সব মানুষ সমান। কারো মাঝে কোনো ভেদাভেদ নেই। মসজিদের ইমাম হওয়া উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া কোনো বিষয় নয়। সমাজের চোখে গরিব মানুষও কুরআনের যোগ্যতা অর্জন করলে ইমাম হতে পারে, আবার ইমামের ছেলে সেই যোগ্যতা অর্জন না করতে পারলে ইমামতি করতে দেওয়া হবে না। মসজিদে নববীর প্রথম মুয়াজ্জিন বেলাল (রা.) একজন কৃষ্ণাঙ্গ কৃতদাসের ছেলে এবং নিজেও দাস ছিলেন। অথচ ইসলাম তাকে কত সম্মান দিয়েছে!
ফা
ফাতিমা এদিকে, ব্রাহ্মণ ছাড়া কেউ মন্দিরের পুরোহিত হতে পারে না। একটা ধর্মের ধর্মগ্রন্থ সবার পড়ার অধিকার থাকা উচিত। কিন্তু হিন্দু ধর্মে ব্রাহ্মণ ছাড়া অন্যদের সবার বেদ পড়া নিষেধ।
পূজা বিষয়টা সত্যিই দুঃখজনক। ভগবান কী বলেছেন তা যদি পড়তেই না পারলাম তবে মানবো কীভাবে?
পূ
উমর রাঃ-এর ইসলাম গ্রহণ
ফা
ফাতিমা হযরত উমর (রা.) ছিলেন ইসলামের ইতিহাসে একজন শক্তিশালী রাষ্ট্রনায়ক, অর্ধ পৃথিবীর বাদশাহ। তিনি প্রথমে মুসলমান ছিলেন না। একদিন হযরত উমর (রা.) হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-কে হত্যা করার উদ্দেশ্যে উন্মুক্ত তরবারি নিয়ে ঘর থেকে বের হলেন। পথিমধ্যে জানতে পারলেন নিজের বোন-ভগ্নিপতি ইসলাম গ্রহণ করেছে।
ফা
ফাতিমা একথা শুনে উমর সোজা বোনের বাড়িতে গিয়ে হাজির হলেন। তাঁর বোন-ভগ্নিপতি উভয়েই তখন কুরআন তিলাওয়াত করছিলেন। উমরকে আসতে দেখেই তাঁরা চুপ করে কুরআনের অংশটি লুকিয়ে ফেললেন। কিন্তু তারা যে কিছু পড়ছেন, উমর টের পেয়েছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী পড়ছিলে? তোমরা নাকি বাপ-দাদার ধর্মকে ত্যাগ করেছো?’ একথা বলেই তিনি ভগ্নিপতিকে প্রহার করতে লাগলেন। স্বামীর সাহায্যের জন্যে বোন এগিয়ে এলে তাঁকেও তিনি মারতে লাগলেন। এমনকি উভয়ে রক্তাক্ত হয়ে গেলেন। কিন্তু এ সত্ত্বেও তারা সুস্পষ্ট ভাষায় বললেন, ‘আমরা সজ্ঞানে ইসলাম কবুল করেছি, সুতরাং তোমার কোনো কঠোরতাই আমাদেরকে এ পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না।’ তাদের এই অটল সংকল্প দেখে উমর (রা.) কিছুটা প্রভাবিত হলেন। তিনি বললেন, ‘আচ্ছা তোমরা কি পড়ছিলে আমাকে শোনাও দেখি।’
ফা
ফাতিমা বোন ফাতিমা কুরআনের অংশটি এনে সামনে রাখলেন। সেটি ছিলো সূরা ত্বহা। তিনি পড়তে শুরু করলেন এবং ১৪তম আয়াত পর্যন্ত এসে পৌঁছলেন: ১) ত্ব-হা-। (২) তোমাকে কষ্ট দেয়ার জন্য আমি তোমার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করিনি। (৩) বরং এমন ব্যক্তিকে উপদেশ দেওয়ার জন্য যে (আল্লাহকে) ভয় করে। (৪) এটা তাঁর নিকট হতে অবতীর্ণ; যিনি সমুচ্চ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। (৫) পরম দয়াময় আরশে সমাসীন। (৬) যা আছে আকাশমণ্ডলীতে, পৃথিবীতে, এই দুইয়ের অন্তর্বর্তী স্থানে ও ভূগর্ভে তা তাঁরই। (৭) তুমি যদি উচ্চস্বরে কথা বলো, তাহলে তিনি তো গুপ্ত ও অব্যক্ত সবই জানেন। (৮) আল্লাহ, তিনি ছাড়া অন্য কোন (সত্য) উপাস্য নেই, সমস্ত উত্তম নাম তাঁরই।
ফা
ফাতিমা (৯) মূসার বৃত্তান্ত তোমার কাছে পৌঁছেছে কি? (১০) সে যখন আগুন দেখলো, তখন তার পরিবারবর্গকে বলল, ‘তোমরা এখানে অবস্থান করো। আমি আগুন দেখেছি; সম্ভবত আমি তোমাদের জন্য তা হতে কিছু জ্বলন্ত অঙ্গার আনতে পারব অথবা ওর নিকট কোন পথ প্রদর্শক পাব। (১১) অতঃপর যখন সে আগুনের নিকট আসলো, তখন আহ্বান করে বলা হলো, ‘হে মূসা! (১২) নিশ্চয়ই আমিই তোমার প্রতিপালক, অতএব তুমি তোমার জুতা খুলে ফেলো, কারণ তুমি পবিত্র তুওয়া উপত্যকায় রয়েছ। (১৩) আমি তোমাকে মনোনীত করেছি; অতএব যে ওহী (প্রত্যাদেশ) প্রেরণ করা হচ্ছে তুমি তা মনোযোগের সাথে শ্রবণ করো। (১৪) নিশ্চয়ই আমিই আল্লাহ, আমি ছাড়া কোন (সত্য) উপাস্য নেই; অতএব আমারই উপাসনা করো এবং আমাকে স্মরণের জন্য নামাজ কায়েম করো।
ফা
ফাতিমা এ পর্যন্ত আসতেই তিনি এতোটা প্রভাবিত হলেন যে, সেখানেই ইসলাম গ্রহণ করলেন।
পূজা আপু আমি এই সূরাটি তোমাদের রবের ভাষায় শুনতে চাই।
পূ
ফা
ফাতিমা ঠিকআছে বোন তাহলে কষ্ট করে কিউআর কোডটি স্ক্যান করো।
আখিরাত
ফা
ফাতিমা আল্লাহ আমাদের সংক্ষিপ্ত একটি জীবন দিয়ে পরীক্ষার জন্য দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। আমি এই মুহূর্তে যেখানে বসে আছি, যদি বলা হয় এখন থেকে ১০০ বছর আগে আমরা কেউ ছিলাম কি না, উত্তর আসবে ‘না’। আবার যদি বলা হয়, এখন থেকে ১০০ বছর পরে এখানে আমরা কেউ থাকবো কি না? এর উত্তরও একই। আমাদের ভাবা দরকার- আমরা কোথায় ছিলাম, এখন কোথায় আছি, আবার কোথায় যাবো।
ফা
ফাতিমা আমাকেই যখন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে, আমাকেই যখন কবরে দীর্ঘকাল থাকতে হবে, আমাকেই যখন বিচার দিবসের কঠিন মুহূর্তে আল্লাহর সামনে আমার প্রতিটি কাজের হিসাব দেওয়ার জন্য দাঁড়াতে হবে, তাহলে আমার পক্ষে কি নিশ্চিত এ ভবিষ্যতের চিন্তার পরিবর্তে উদাসীন হয়ে থাকার কোনো উপায় আছে?
পূজা আপু, সত্যিই বিষয়টা চিন্তার।
পূ
ফা
ফাতিমা এজন্যই ভেবে দেখা দরকার- যেই মালিক আল্লাহ আমাদেরকে আমাদের মা-বাবার চাইতে বেশি ভালোবাসেন, এতো দয়া করে মারা করে বানালেন, এতো নিয়ামতের মধ্যে রেখেছেন, আমি কি প্রকৃত সেই মালিকের দেখানো পথে চলছি? সামান্য একটি সর্দাই কিনতে গেলেও কতাবার যাচাই-বাছাই করে দেখি। আর যেই আল্লাহ আমাকে এতো সুন্দর জীবন দিলেন, যেই আল্লাহর কাছে আমাদের সবাইকে ফিরে যেতে হবে, সেই আল্লাহকে কি আমার ভালো করে চেনা উচিত নয়? আর তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য ধর্ম একটাই- ইসলাম। পৃথিবীর সর্বপ্রথম মানুষ আদম ও হাওয়া দুজনেই মুসলমান ছিলেন। ঠিক একইভাবে খ্রিষ্টানরা যাকে খোদা মানে ঈসা (আ.) মুসলমান ছিলেন এবং আল্লাহর নবী ছিলেন।
ফা
ফাতিমা মূসা (আ.) ও আল্লাহর নবী ছিলেন। যুগে যুগে আল্লাহ নবী ও রাসূল পাঠিয়েছেন যাতে মানুষ সত্য চিনতে পারে। শুধু নবীদেরকেই পাঠাননি তাদের সাথে পাঠিয়েছিলেন ঐশী কিতাব।
ফা
ফাতিমা শুধু কুরআন ব্যতীত আগের সকল ধর্মগ্রন্থ মানুষ নিজের মন মতো পরিবর্তন করে ফেলেছে। পৃথিবীতে একটি মাত্র অবিকৃত ধর্মগ্রন্থ কুরআন, যার কোনো পরিমার্জন বা পরিবর্তন হয়নি।
ফা
ফাতিমা সমগ্র বিশ্বে পবিত্র কুরআনের কোটি কোটি হাফেজ রয়েছেন। এরপরেও কথার কথা ধরে নিলাম- যদি পৃথিবীর সমস্ত আল-কুরআন নষ্ট করে দেওয়া হয় তবুও এই হাফেজ সাহেবরা আবার নতুন করে হুবহু আগের মতো কুরআন লিখে দিতে পারবেন।
ফা
ফাতিমা শত শত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা মহাগন্থ আল-কুরআনকে সমর্থন করেন। কুরআনের মাধ্যমে জ্ঞানের নতুন নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। প্রায় ৬ হাজারের অধিক আয়াত রয়েছে কুরআনে। পৃথিবীর সমস্ত মানুষ চেষ্টা করেও এখন পর্যন্ত একটা লাইনও ভুল বের করতে পারেনি।
ফা
ফাতিমা আল্লাহ্ তাআলা বলেন- ‘আমি আমার বান্দা মুহাম্মাদ (সা.) এর প্রতি যা অবতীর্ণ করেছি তাতে তোমাদের কোনো সন্দেহ থাকলে তোমরা তার অনুরূপ কোনো সূরা নিয়ে আসো এবং তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের সকল সাক্ষীকে (এ কাজে সহযোগী উপাস্যদের) ডাকো। অতএব, যদি তোমরা তা করতে না পারো আর কখনোই তা করতে পারবে না, তাহলে তোমরা সে আগুন থেকে বাঁচার ব্যবস্থা করো, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর, যা প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে কাফিরদের জন্য।’ (বাকারা: ২৩)
ফা
ফাতিমা ‘ইসলাম ব্যতীত অন্য সকল ধর্ম মানুষের তৈরি। কস্মিনকালেও তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট (একমাত্র মনোনীত) ধর্ম হলো ইসলাম।’ (আল ইমরান: ১৯) ‘যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম তালাশ করে, কখনোই তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখিরাতে সে হবে ক্ষতিগ্রস্ত।’ (আলে ইমরান: ৮৫)
ইসলাম গ্রহণ
ফা
ফাতিমা তুমি কি জানো মুহাম্মাদ (সা.) শুধু মুসলমানের জন্য প্রেরিত রসূল নন; তিনি সকল ধর্মের জন্য প্রেরিত নবী ও রাসূল?
পূজা না, এটা তো শুনিনি।
পূ
পূজা আমি কি তাহলে এতদিন ভুলের মাঝে ছিলাম?
পূ
ফা
ফাতিমা মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মুহাম্মাদ! ঘোষণা করে দাও, “ওহে মানবজাতি, আমি তোমাদের সবার প্রতি মহান আল্লাহর রাসুল।"' (আরাফ: ১৫৮)
ফা
ফাতিমা বোন, সত্য গ্রহণে আর দেরি করো না। যে ব্যক্তি কালিমা স্বীকার করবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে। তুমি যদি মুসলমান হয়ে যাও, তবে আমার পার্থিব কোনো লাভ নেই। আমি চাই আমার খুব প্রিয় বন্ধু হয়ে তুমি কোটি কোটি বছর অনন্তকাল নরকের আগুনে না জ্বলো। আমি কি আমার বন্ধুর সাথে একসাথে স্বর্গে থাকতে পারবো না? আমি চাই তুমি আমার সাথে কালিমা পড়ে নাও। ইসলাম গ্রহণ করে নাও। তুমি দুনিয়া ও পরকাল উভয় জীবনে সফলতা অর্জন করবে।
পূজা ঠিক আছে, আমাকে কালিমা পড়িয়ে দাও।
পূ
ফা
ফাতিমা তুমি কি বিশ্বাস করো- আল্লাহ্ ছাড়া আর কোনো মালিক বা উপাসনার যোগ্য কেউ নাই?
পূজা হ্যাঁ।
পূ
ফা
ফাতিমা তুমি কি বিশ্বাস করো মুহাম্মাদ (সা.) সমস্ত মানুষের জন্য প্রেরিত আল্লাহর দূত?
পূজা জি, অবশ্যই।
পূ
ফা
ফাতিমা তাহলে আমার সাথে পড়ো- ‘আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা- শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আবদুহু ওয়ারাসূলুহু।’ অর্থ: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তার কোনো অংশীদার নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহর প্রেরিত রাসূল।
পূজা / আয়িশা জি, অবশ্যই। আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা- শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান ‘আবদুহু ওয়ারাসূলুহু।
পূ
ফা
ফাতিমা আলহামদুলিল্লাহ আজ থেকে তুমি মুসলিম। তোমার মুসলিম নাম আয়িশা। তোমারও একই কাজ এই সত্যকে অন্যের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
আয়িশা বোন তুমি আমার জন্য দোয়া করো যেন আল্লাহ রব্বুল আলামিন আমার মতো আমার বাবা-মা সহ পরিবারের সবাইকে ইসলামের আলোয় আলোকিত করে দেন।

স্থায়ী প্রশান্তি

প্রকৃত শান্তি দুনিয়া থেকে পলায়ন নয়, বরং তার স্রষ্টার সাথে সামঞ্জস্য। এক আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ হৃদয়কে সেই শান্তি এনে দেয় যা এটি সর্বদা খুঁজেছে।

আমরা এখানে কেন?

আমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে এক আল্লাহকে জানার ও ভালোবাসার জন্য এবং সৎভাবে জীবনযাপন করার জন্য। এটি উপলব্ধি করলে জীবন দিশা ও গভীর অর্থ পায়।